মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ। একই সময়ে আঞ্চলিক কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদেরও সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালেও মার্কিন সেনাদের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার এনবিসি জানিয়েছে, সেনা সরানোর বর্তমান উদ্যোগ গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে প্রথম দফা হামলার আগে পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তরের নেওয়া প্রস্তুতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব ঘাঁটিতে সীমিতসংখ্যক সেনা রাখা হবে। তাঁদের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরাও রয়েছেন।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা সরিয়ে নিয়েছিল পেন্টাগন। সে সময় কয়েক হাজার সেনা বেসামরিক হোটেল ও অফিস ভবনে আশ্রয় নেন। তেহরানের অভিযোগ ছিল, আবাসিক এলাকায় সেনা ছড়িয়ে দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স। তবে তিনি জানান, সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবেই সেনাদের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়ে থাকে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র সৌদি আরবের কূটনৈতিক মিশন থেকে সম্প্রতি অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ইয়েমেনের হুতিদের হামলার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি স্থান থেকে কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ ধরনের খবরকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।
সদ্য সংবাদ/এআর