আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদিকের বয়স ৫৭ বছর। চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান নিয়ে বড় পরিবার তার। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে মৌলিক চাহিদা পূরণ সবকিছু সামাল দিতে গিয়ে এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন যে, পরিবারের কোনো কোনো শিশুকে ক্ষুধা নিয়েই রাত কাটাতে হয়। এ তথ্য জানিয়েছে খামা প্রেস এজেন্সি, বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে।
সাদিকের জীবনের বড় অংশজুড়ে এখন পরিবারের ব্যয় মেটানোর সংগ্রাম। একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন তিনি। তার দাবি, গাড়ি বিক্রি হলে প্রায় এক হাজার আফগানি আয় হয়। এত অল্প আয়ে এত মানুষের খাবার, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে কয়েকজন সন্তানও কাজ করে। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক কুড়িয়ে আনে।
বড় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিদিনের জীবনযাপনও সহজ নয়। সাধারণত দিনে দুবার খাবার রান্না হয়। দুই স্ত্রী রান্নার দায়িত্ব সামলান। গরমের দিনে পরিবারের সদস্যরা উঠানে বসে খাবার খান, আর শীতকালে ঘরের ভেতরেই সবাইকে জায়গা করে নিতে হয়। রাতে ঘুমানোর জন্যও পর্যাপ্ত বিছানা নেই; কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগ করে নিতে হয়।
পরিবারটির বসবাসের পরিবেশও বেশ অস্বাস্থ্যকর ও অপ্রতুল। ঘরে প্রচলিত দরজা-জানালার বদলে কোথাও কোথাও পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসল, কাপড় ধোয়া ও থালাবাসন পরিষ্কারের জন্য একই জায়গা কাজে লাগাতে হয়। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা করানোর চেষ্টা করেছেন সাদিক। তবে শিক্ষার খরচ জোগাড় করা তার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সন্তানদের নাম মনে রাখতেও বিপাকে পড়েন এই বাবা। বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন, কখনো পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাওয়ার সময় সন্তানদের গুনে দেখতে হয়। কেউ অনুপস্থিত থাকলে পরে খোঁজ নিতে হয়। সন্তানদের নাম ভুলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া তার দাবি, দীর্ঘ সময়ে তিনি ও তার স্ত্রীরা ১৪ সন্তানকে হারিয়েছেন।
সাদিকের ভাষ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বেশি সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা তার মধ্যে কাজ করেছিল। তবে বড় পরিবার গড়ার এই সিদ্ধান্তের আর্থিক ও বাস্তব চাপ এখন স্পষ্ট। তার চার স্ত্রী যখন বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। সাদিকের নিজের বয়স ছিল প্রথম বিয়ের সময় ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমাতে তাকে সময় নিতে হয়েছিল।
এই পরিবারটির পরিস্থিতি আফগানিস্তানে দারিদ্র্য, শিশুদের শিক্ষা এবং নারীদের অল্প বয়সে বিয়ে ও গর্ভধারণের ঝুঁকির বিষয়গুলো সামনে এনেছে। কৈশোরে বিয়ে ও গর্ভধারণ মেয়েদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে; বারবার গর্ভধারণও মায়ের শরীরে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এসব উদ্বেগ আরও বাড়ায়।
নিজে পড়তে ও লিখতে না পারা সাদিক এখন সরকারি কর্তৃপক্ষ, ত্রাণ সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের কাছে সহায়তা চাইছেন। তার প্রত্যাশা, সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত হবে এবং পরিবারের সবাই অন্তত নিয়মিত খাবার পাবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস