আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা ও উপস্থিতি বাড়াতে গ্রিনল্যান্ডে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় নিয়োগ পাওয়া সেনাদের মোতায়েন করেছে ডেনমার্ক। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশটির বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় থাকা সেনারা গ্রিনল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করছেন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ প্রকাশের পর ডেনমার্কের এ উদ্যোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তার সেই প্রস্তাব শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা সেনারা ডেনমার্কের সম্প্রসারিত বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা কর্মসূচির প্রথম দিকের একটি ব্যাচের সদস্য। কঠিন ভৌগোলিক পরিবেশ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাজ করার উপযোগী করে তাদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
১৯ বছর বয়সী সেনা ডেভিড বলেন, গ্রিনল্যান্ডে তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে ডেনমার্ক এখানে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। একই সঙ্গে শুধু ডেনমার্কের স্বার্থ নয়, গ্রিনল্যান্ডের জনগণের বিষয়টিও তারা বিবেচনায় রাখছেন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ডেনমার্ক ইতোমধ্যে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এর আগে আর্কটিক অঞ্চলে অতীতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিরক্ষা অবকাঠামো শক্তিশালী করতে শত শত কোটি ডলারের অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন সেনাদের কঠিন পরিবেশে যুদ্ধ ও টিকে থাকার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ‘আর্কটিক অ্যান্ডুরেন্স’ নামের সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়ে তীব্র শীত, দুর্গম ভূখণ্ড ও গাছপালাহীন বিস্তীর্ণ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অনুশীলন করছেন তারা।
সৈন্যদের কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন লরা জেপসেন জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও কঠিন ভূপ্রকৃতিতে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জনই প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সেনাদের আর্কটিক পরিবেশে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।
এই প্রশিক্ষণ ন্যাটোর ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বক্তব্যের পর আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি বছর এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তবে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই এলাকায় ন্যাটোর সামরিক কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে মস্কো। আর্কটিকে রাশিয়ার বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। পাশাপাশি চীনও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে অঞ্চলটিতে নিজেদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে।
সব মিলিয়ে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকা আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরদারের পথে হাঁটছে ডেনমার্ক। ২২ বছর বয়সী সেনা আন্তনের ভাষায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডেনমার্কের প্রস্তুতির বার্তাই তুলে ধরা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে