হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী একটি সুপারট্যাংকারসহ দুটি বড় জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। অজ্ঞাত বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজ দুটির ক্ষয়ক্ষতি হলেও উভয় জাহাজের নাবিক ও ক্রুরা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার গভীর রাতে পৃথক দুটি ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ও ম্যারিস্কস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ওমানের জলসীমার কাছাকাছি দুটি ভিএলসিসিতে আঘাতের ঘটনা ঘটে।
প্রথম হামলার শিকার হয় সৌদি পতাকাবাহী ‘সিদর’। জাহাজটি ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ১৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থান করার সময় অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকার কাছাকাছি ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ নামের আরেকটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে পরপর তিনটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে। জাহাজটি লিবিয়ার পতাকাবাহী হলেও হামলার পর এর সব ক্রু নিরাপদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের অবস্থানও ওমানের জলসীমার কাছাকাছি বলে জানানো হয়েছে।
কেপলারের তথ্য বলছে, হামলার শিকার দুটি ট্যাংকারই সম্প্রতি সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করেছিল। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এখানে যেকোনো নিরাপত্তা সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং প্রণালিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এরই মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহনে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিকের একটি করিডোর অতিক্রমের সময় সৌদি আরবের আরেকটি তেলবাহী জাহাজকে থামিয়ে আটক করা হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ হামলা ও জাহাজ আটকের খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসএস