নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দুই দেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এ দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৪৬২ জন।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নেপাল নতুন করে ৮৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮৭ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের তালিকায় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩৯ জনও রয়েছেন।
অন্যদিকে, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। সেখানে এখনো ৫৪৬ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। দুই দেশের হিসাব একত্র করলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩ জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৪৬২।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলা। গত ২৬ আগস্ট লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহ ভেঙে পড়ার পর বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল স্রোত নেমে আসে। পরে ওই ধ্বংসাবশেষ নদী ও উপত্যকা দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষের কারণে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রেপালানচকসহ কাঠমান্ডু উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপাল সীমান্তের জিরং সীমান্ত ক্রসিং কাদা ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়েছে।
এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি নাগরিক থাকায় উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নিখোঁজ বিদেশিদের বড় একটি অংশ ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। তালিকায় ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।
দুর্যোগের পর নিখোঁজদের শনাক্ত ও মরদেহ উদ্ধারে নেপাল অতিরিক্ত সরঞ্জামের সহায়তা চেয়েছে। এর মধ্যে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দুর্গত এলাকা শনাক্তে রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি এবং ড্রোন রয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। তবে ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান আরও এগিয়ে নেওয়া গেলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে