ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে সরকারি কোনো পদে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে তাকে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশটির সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কোকা কোদো সিনক্লেয়ারকে ঘিরে করা দুর্নীতির মামলার রায়ে মোরেনোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
রায়ে ৭৩ বছর বয়সি মোরেনোর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আদালতের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল কাবরেরা।
মামলার তদন্তে মোরেনোর পরিবারের সদস্য, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং কয়েকজন চীনা ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতার কথাও উঠে আসে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ২০২৩ সালের মার্চে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভুয়া পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ দেয়।
তদন্তকারীরা জানান, এসব অর্থ বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত দেশগুলোতে প্রতিষ্ঠিত কথিত ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে অর্থের একটি অংশ মোরেনোর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই মামলায় মোরেনোর স্ত্রী, মেয়ে, দুই ভাই এবং তাদের স্ত্রীদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় কুইটোতে চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুংগুওকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মোরেনো ও তার ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা এক মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিলেন।
এদিকে আদালতের রায় ও অভিযোগের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন মোরেনো। তার দাবি, কোকা কোদো সিনক্লেয়ার প্রকল্পের কোনো চুক্তি করা কিংবা প্রকল্প তদারকির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না।
শুনানিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে মোরেনো বলেন, তদন্তে ভুল ব্যক্তিদের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের চুক্তিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন এবং যারা নিয়মিত ঘুষ দাবি করতেন, তাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।
কোকা কোদো সিনক্লেয়ার জলবিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০১৬ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। তবে চালুর পর থেকেই কেন্দ্রটির বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
লেনিন মোরেনো ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তিনি প্যারাগুয়ে থেকে নিজ দেশে ফিরে আসেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস