নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪৬৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
শুক্রবার ভোরে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে নেপাল পুলিশ বলেছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে দুর্গত এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে বন্যার পর বিভিন্ন এলাকায় কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ থাকায় উদ্ধারকাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপালের উত্তরাঞ্চলের ভোতি কোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। এতে সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় দ্রুতগতিতে বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে। একই সময় সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং এলাকাতেও আঘাত হানে আকস্মিক বন্যা।
প্রবল স্রোতের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে যায়। এতে বাড়িঘর, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ হন।
এর আগে বৃহস্পতিবার নেপাল ও চীনের সরকারি সূত্র জানিয়েছিল, রাসুয়া ও গিরং এলাকায় মোট ১ হাজার ৩৮৪ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে নেপালে ৮২৬ এবং তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেড়ে ১ হাজার ৪৬৮ জনে পৌঁছায়।
দুর্যোগের পর নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গতদের জন্য আকাশপথে খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছেন জরুরি সেবা ও উদ্ধারকর্মীরা। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধানের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্ত ও সৎকারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়া। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দিবগা তামাং। আরও তিনজনের সঙ্গে তাকে হেলিকপ্টারে করে নুয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
উদ্ধারের পর নিজের স্বজনদের হারানোর কথা বলতে গিয়ে তামাং আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, তার পরিবারের কেউ আর বেঁচে নেই এবং তার জন্য অপেক্ষা করার মতোও কেউ নেই। ভয়াবহ এই দুর্যোগে এক মুহূর্তেই তার পুরো জীবন বদলে গেছে।
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিখোঁজের সংখ্যা বেশি হওয়ায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম ভূখণ্ড, ধ্বংসস্তূপ ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিখোঁজদের সবাইকে দ্রুত শনাক্ত করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে