পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য ও দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকসহ শতাধিক ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংস্থাটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) দেশের সব ব্যাংকে জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে বলে এনবিআর-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে সম্ভাব্য হিসাবধারীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪টি পরিবারের হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে।
গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানিয়েছিলেন, বিশেষ কারণে সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪ পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দের কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনুসন্ধানের পরিধি বাড়ায় তালিকাও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা টিপু মুনশি।
এ ছাড়া এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের নামও রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।
মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি এবং শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাবও স্থগিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের হিসাবও নজরদারিতে রয়েছে। তাদের মধ্যে ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী এবং শুভ নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে সূত্রগুলো।
এনবিআর-সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব আগে থেকেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা অন্যান্য সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে জব্দ রয়েছে। এ কারণে তালিকাটি নিয়মিত পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
এর আগে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছিলেন, পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন শিল্পমালিকের সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সদ্য সংবাদ/এজে