রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক ও গণপরিবহনে তৃতীয় লিঙ্গের কিছু মানুষের অর্থ সংগ্রহের ঘটনায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে বিভিন্ন সিগন্যাল ও যানজটপূর্ণ এলাকায় গাড়িতে উঠে কিংবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।
অনেক যাত্রী মানবিক বিবেচনায় সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অর্থ না দিলে কখনো কখনো যাত্রীদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানো, অস্বস্তিকর আচরণ কিংবা নানা ধরনের অশোভন অঙ্গভঙ্গির মুখোমুখি হতে হয়। এতে অনেকেই বিব্রতবোধ করেন বলে জানিয়েছেন।
রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সিগন্যালে যানবাহন থামার পর কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি বিভিন্ন গাড়ির কাছে গিয়ে অর্থ নিচ্ছেন। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দিচ্ছেন, আবার কেউ দিতে না চাওয়ায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে গাড়ি চলাচলের মধ্যেও তাদের অর্থ সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বনানী, মহাখালী আমতলী ও বনানী ফ্লাইওভারসংলগ্ন এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়। সড়কে যানবাহনের চাপের মধ্যে অর্থ সংগ্রহের কারণে চালকদের কেউ কেউ বিরক্তি প্রকাশ করেন। সদ্য সংবাদ টিমের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। আবার কেউ অর্থ আদায়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
যাত্রীদের কয়েকজন জানান, সাহায্যের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় অর্থ দেওয়ার বিষয়টি আলাদা। কিন্তু কাউকে বাধ্য করা বা অর্থ না দিলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার অভিযোগ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সামাজিক অবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সড়ক থেকে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি জনসাধারণকে হয়রানি বা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে সেটিও আইনের আওতায় আনা জরুরি।
নাগরিকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যাতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর সড়ক ও গণপরিবহনে যাত্রীদের ভোগান্তিও কমে আসে।
সদ্য সংবাদ/এসএস