কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শুরু হয়েছে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬–২৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে রোববার (৩০ আগস্ট) কেন্দ্রীয় মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনের খেলায় জয় পেয়েছে অর্থনীতি ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।
উদ্বোধনী ম্যাচে অর্থনীতি বিভাগের মুখোমুখি হয় ফার্মেসি বিভাগ। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফল নিষ্পত্তি না হওয়ায় খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। সেখানে ৪–৩ গোলে ফার্মেসিকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করে অর্থনীতি বিভাগ।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেও নির্ধারিত সময়ের পর ট্রাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এতে সিএসই বিভাগকে ৩–১ গোলে পরাজিত করে পরবর্তী ধাপে জায়গা করে নেয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন। অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি বিভাগ অংশ নিচ্ছে। নকআউট পদ্ধতিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একে অপরের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকার খেলোয়াড়দের খেলোয়াড়সুলভ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সবাই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাই জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বা সংঘাতের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, খেলায় একটি দলই চ্যাম্পিয়ন হবে। তাই ফলাফলকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। মাঠে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক বা বিশৃঙ্খল আচরণ গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও খেলাধুলার ভূমিকা রয়েছে। ফুটবলের মতো দলীয় খেলায় নেতৃত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমন্বয়ের গুণ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা শিক্ষার্থীদের অনলাইননির্ভরতা ও মাদকের মতো ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বলেন, প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয়। খেলাকে কেন্দ্র করে যেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের আরও প্রস্তুত করাই হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য।
সদ্য সংবাদ/এসএস