জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বাসের রক্ষণাবেক্ষণে বিলম্ব, নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত বাস না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য পরিবহন দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার আল মামুনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও পরিবহন সংস্কার আন্দোলনের প্রতিনিধিরা।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি বাস যান্ত্রিক ও অবকাঠামোগত সমস্যায় চলাচলের বাইরে রয়েছে। ফলে নিয়মিত শিডিউল পরিচালনায় চাপ বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
পরিবহন সংস্কার আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক ও পরিবহন ছাত্র প্রতিনিধি দেবদূত কর তীর্থ বলেন, পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তারা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার দাবি, গত ১২ জুলাই সংস্কার কার্যক্রমের পরও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি আসেনি। পরিবহন প্রশাসক ও নতুন সুপারভাইজারের উদ্যোগ থাকলেও কর্মকর্তা মামুনের প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাসের কারিগরি সমস্যার উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি অভিষেক সাহা বলেন, ‘প্রলয় শিখা’ নামের বাসটিতে গ্যাস কিট ও মবিল কিটে লিকেজসহ গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। সময়মতো মেরামত না হওয়ায় বাসটি বর্তমানে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এছাড়া ‘সাম্যবাদী’ ও ‘প্রভাতী’ বাসের আসন নষ্ট এবং ‘রণভেরী’ বাসের ফ্যান নষ্ট থাকার কথাও জানান তিনি।
অভিষেকের অভিযোগ, ময়মনসিংহ শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা সকালের বিভিন্ন শিডিউলে অতিরিক্ত বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, চালকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া এবং পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিতে হঠাৎ পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটছে। তাদের দাবি, গত ২০ আগস্ট ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা শিকদার ট্রান্সপোর্টের একটি বাসের নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে পরিবর্তন করে ১২টা ২০ মিনিট করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাড়াহুড়ো তৈরি হয় এবং কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, পরিবহন সংকটের কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাসে বসার পাশাপাশি অনেক সময় দাঁড়িয়েও যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। তার অভিযোগ, প্রতিটি শিডিউলে বাসের সংখ্যা কম থাকায় প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন দপ্তরের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়সূচি-সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী রেজিস্ট্রার আল মামুন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, শিডিউল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তার ওপর থাকলেও বাসের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রকৌশলী আল আমিনের।
বাসের সংখ্যা কমানো কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আল মামুন বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় তার জানা নেই। কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে তার কাছে এলে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, এর আগেও প্রশাসনিক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগের পর আল মামুনকে পরিবহন দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে বর্তমান পরিবহন প্রশাসক ড. আহমেদ শাকিল হাসমি সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাকে আবার দায়িত্ব দেন।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের দাবি, পরিবহন সেবার বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পর্যালোচনা করে অচল বাসগুলো মেরামত, সঠিক সময়সূচি নিশ্চিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সদ্য সংবাদ/এসএস