কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলে দেয়ালে বিভিন্ন লেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরোধের জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে হল থেকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে হলের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন।
জানা গেছে, হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষের আশপাশের দেয়ালে ‘JCD’সহ কয়েকটি লেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি পরে হলের মেসেঞ্জার গ্রুপের কথোপকথনে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরে ওই বিরোধের সূত্র ধরে ৫০৮ নম্বর কক্ষে থাকা ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদের সঙ্গে কয়েকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মামুনুর রশীদ অভিযোগ করেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী তার কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর করেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তারা আলোচনার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন এবং পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতি হয়।
এ ঘটনার মীমাংসার জন্য হল প্রভোস্টের কক্ষে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। তখন প্রভোস্ট কক্ষের বাইরে আরও একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ আহমেদ মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদকে সাময়িকভাবে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তাদের কক্ষ থেকে বিছানাপত্র বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট জানান, দেয়ালে লেখা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দুই পক্ষের বক্তব্যে সমন্বয় না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হলের হাউজ টিউটর মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাউজ টিউটর খন্দকার ওয়ালীউল্লাহ ও জহিরুল ইসলাম বাবর।
কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।
সদ্য সংবাদ/এসএস