পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমের ভরাডুবি: জোট-সমীকরণ, কৌশলগত ভুল নাকি সংগঠনের দুর্বলতা?

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে আলোচিত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমের অপ্রত্যাশিত পরাজয় এখন জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে টক অব দ্য টাউন। নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট। বিপরীতে সারজিস আলমের ঝুলিতে এসেছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফলাফলে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে জোট-সমীকরণ ও নির্বাচনী কৌশল। সারজিস আলমের প্রাপ্ত ভোটের একটি বড় অংশ এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-ঘনিষ্ঠ ভোটব্যাংক থেকে। স্থানীয়দের ধারণা, এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। তবে স্বাধীনতার মুক্তাঞ্চলখ্যাত পঞ্চগড়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার অভিযোগে বিতর্কিত একটি দলের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি অনেক ভোটারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও কোটাবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন সারজিস আলম। সেই সময়ের নেতৃত্ব তাকে নতুন ধারার রাজনীতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তীতে তিনি সরাসরি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর রাজনীতিতে যুক্ত হন।

কিন্তু নির্বাচনী রাজনীতির মাঠে এসে তিনি সেই স্বকীয়তা ধরে রাখতে পারেননি, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তির ঘাটতি, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও হিংসাত্মক বক্তব্য তার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে তার নেতিবাচক মন্তব্যও ভোটের মাঠে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ধৈর্যশীল ও সুসংগঠিত প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। ঘরে ঘরে গণসংযোগ, সংযত ভাষা এবং পরিমিত রাজনৈতিক আচরণ তাকে ভোটের মাঠে এগিয়ে রাখে। তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নওশাদ জমিরের বাবা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার তিনবারের সাবেক মন্ত্রী, স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এলাকায় তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, এখনো কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন স্থানীয়রা। সেই ইতিবাচক ভাবমূর্তি ভোটের সমীকরণে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: যুগান্তর

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সদ্য. দুবাইয়ে শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুম আর নেই, ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সদ্য. যুবলীগ হিসেবে আটক, বিজেপি পরিচয়ে মুক্তি সদ্য. ইতালির রোম বিমানবন্দরে মিন্টু-টুকুকে বিএনপি শাখার উষ্ণ অভ্যর্থনা সদ্য. জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সদ্য. দুবাইয়ে শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুম আর নেই, ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সদ্য. যুবলীগ হিসেবে আটক, বিজেপি পরিচয়ে মুক্তি সদ্য. ইতালির রোম বিমানবন্দরে মিন্টু-টুকুকে বিএনপি শাখার উষ্ণ অভ্যর্থনা সদ্য. জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী