ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় অনিয়মের অভিযোগ জানাতে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে গিয়ে জোটের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও আসতে পারে। শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের পরাজিত করতে একটি বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে নির্বাচনী কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. এস এম খালেদুজ্জামানকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনের ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিভিন্ন আসনে ভোট গণনা শেষ করে ফলাফল জমা দেওয়া হলেও সেগুলোর ঘোষণা হচ্ছে না। বিশেষ করে যেসব আসনে ১১ দলীয় জোটের নেতারা প্রার্থী, সেসব আসনের ফল রহস্যজনকভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে। তার দাবি, হাতে থাকা রেজাল্ট শিট ও এজেন্টদের সরবরাহ করা ফলাফলের সঙ্গে ঘোষিত বা প্রস্তুত ফলাফলের মিল নেই।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অন্যান্য নির্বাচন কর্মকর্তারা একটি বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে এসব কর্মকাণ্ড করছেন বলে তাদের মনে হচ্ছে। কিছু আসনে দ্রুত ফল ঘোষণা করা হলেও জোটের প্রার্থীদের আসনে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের আসনের ফলাফল সংগঠনগতভাবে সন্ধ্যা আটটার মধ্যেই পাওয়া গেলেও এখনও তা ঘোষণা হয়নি। পরে যেসব ফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো যোগ করলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বড় ধরনের চক্রান্তের আভাস পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে যে জাতি ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে, তাকে ষড়যন্ত্র করে মাথা নত করানো যাবে না। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বোধোদয় হওয়া উচিত, অন্যথায় ১১ দলীয় জোট একসঙ্গে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করবে এবং দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।
তিনি বলেন, যেকোনো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সরকারিভাবে ঘোষণা না হলেও গণমাধ্যমে একটি দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেখানো হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতেই এই চক্রান্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এ কারণেই ১১ দলীয় জোট নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক আসনেই এমন ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-১৭ আসনে অন্তত আটটি রেজাল্ট শিট চূড়ান্ত হওয়ার পর ফেরত নিয়ে কাটাকাটি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের ফলে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধান তৈরি করে ডা. খালেদুজ্জামানকে পরাজিত দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ১২৯টি কেন্দ্রের ফলাফলে ২০ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে থাকলেও ফল ঘোষণা না হওয়ায় প্রতিপক্ষ এ সুযোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো একটি আসনে এত দীর্ঘ সময় ধরে ফল আটকে রাখা পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই তারা মনে করছেন। ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা যাতে বিজয়ী হতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এই ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।