সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি, ফিলিস্তিন ইস্যুতে জনমত এবং রাষ্ট্রীয় অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ পুনর্বহালের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে সেটি সীমিত পরিসরে কার্যকর হয়। এখন সব ধরনের পাসপোর্টে তা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ই-পাসপোর্ট চালুর সময় ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ বাদ দেওয়া হয়। এর আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত—‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ছাড়া।’
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাসপোর্টের নকশা ও বিষয়বস্তুতে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ নিয়ে এপ্রিল এবং চলতি মাসে একাধিক বৈঠক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন মিলেছে বলে জানা গেছে।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে নতুন পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। বর্তমানে যাদের পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। মেয়াদ শেষে নবায়নের সময় নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
বাদ যাচ্ছে যেসব ছবি
বর্তমান ই-পাসপোর্টের প্রতিটি পাতায় জলছাপ হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা, অবকাঠামো ও প্রতীক পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাদ পড়ছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, স্বাধীনতা স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নৌকাসহ কক্সবাজার সৈকত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কান্তজিউ মন্দির এবং মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ছবি।
যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রতীক ও স্থাপনা
নতুন পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি। পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে বঙ্গভবন, জামদানি শাড়ি, কাঁঠাল, ইলিশ, টাঙ্গুয়ার হাওর, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, আহসান মঞ্জিল, শালবন বিহার, নীলগিরি, রাজশাহীর আমবাগান, জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং পানাম নগরীর ছবি।
তবে আগের কিছু পরিচিত প্রতীক ও স্থাপনা আগের মতোই থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে শাপলা, বেঙ্গল টাইগার, দোয়েল, শহীদ মিনার, সুপ্রিম কোর্ট, শিখা অনির্বাণ, লালবাগ কেল্লা, হাতিরঝিল, বায়তুল মোকাররম, কার্জন হল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাট, চা-বাগান, সুন্দরবন এবং জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্ম।
স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পাসপোর্টের ভেতরের কয়েকটি জলছাপ বাদ দিয়ে নতুন কিছু ছবি সংযোজনের প্রক্রিয়া চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সরকারপ্রধানের অনুমোদন পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শর্ত পুনর্বহাল এবং পাসপোর্টের জলছাপে পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সরকার রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রতীকী উপস্থাপনায় নতুন বার্তা দিতে যাচ্ছে।