অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্রতিরোধে নতুন আইন করতে জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে বিলটি উত্থাপন করা হয়। এতে ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বাতিল করে আধুনিক ও যুগোপযোগী জুয়া প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
নতুন বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এতে ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে—যার মধ্যে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ড অন্তর্ভুক্ত।
বিলে বলা হয়েছে, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। জুয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ায় সম্পৃক্ত থাকলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেড় শত বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭’ বর্তমান সময়ের ডিজিটাল জুয়া, অনলাইন বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার বিস্তার মোকাবিলায় অপর্যাপ্ত। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জুয়ার বিস্তার সমাজ, অর্থনীতি ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট, ভিপিএন ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে জুয়া ও অর্থপাচার বাড়ছে। এসব অপরাধ দমনে সমন্বিত ও যুগোপযোগী আইন প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।