ঘড়ির কাটা সকাল ৯টা ৫ মিনিটের ঘরে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। আশপাশে কাউকে পাওয়া যায়নি কথা বলার জন্য। পরে উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা গেল সকাল ৯টা ৮ মিনিটে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাছলিমা বেগমের কক্ষে ওপরে পাখা ঘুরছে চেয়ার খালি কেউ নেই।
অন্য রুমে থাকা ফুট ইন্সপেক্ট সকিনা আক্তার জানালেন স্যার রাস্তায় আছে। যুব উন্নয়ন অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস সহায়ক আব্দুল কাইয়ুম চেয়ার টেবিল পরিস্কার করছেন। ৯টা ১০ বেজে গেলেও কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেনের দেখা মিলেনি।
ঘড়ির কাটা সকাল ৯টা ১২ মিনিট বাজে। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দুবরাজ রবি দাস তখনো অফিসে আসেনি। সহকারী পরিদর্শক রোজিনা আক্তার জানালেন উনি আসছেন। পরিসংখ্যান অফিসে গিয়ে দেখা মিলল যুব উন্নয়নের অফিস সহায়ক কোহিনূর আক্তার অফিস ধুয়া মুছা করছেন। ৯টা ১৫ মিনিট বেজে গেলেও পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শিপ্রা নাথের খবর নেই।
৯টা ১৭ মিনিটে প্রাখমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক ফারহান শাহরিয়ার একা বসে আছে। দায়িত্বে থাকা সহকারি শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাসনাত জহিরুল ভূইয়ার কক্ষটি ফাঁকা। উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন ভূঁঞার কক্ষে তালা ঝুলছে তখন ঘড়িতে বাজছে সকাল ৯টা ২০মিনিট। ৯টা ২৫ মিনিট বেজে গেলেও অফিস খোলার নামই নেই উপজেলা তথ্য কেন্দ্র ও তথ্য আপার।
দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে গেইটে বড় একটি তালা ঝুলছে। কথা বলার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি সেখানে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অফিস খোলা পাওয়া গেলেও ৯টা ২৭মিনিট পর্যন্ত শান্ত মালাকার ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। শাখা ব্যবস্থাপক মাসরুকা আক্তারের রুমটি ফাঁকা পড়ে আছে।
৯টা ২৮ মিনিটে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান শুধু রোববারের জন্য ছুটিতে রয়েছে বলে জানান উপজেলা আনসার কমান্ডার শাহ আলম। তার পাশে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর। ওই কার্যালয়ের অফিসার মো. মাসুদ রানা রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকা হেড অফিসে ট্রেনিংয়ে রয়েছেন বলে জানান মেকানিক মো. শরীফুল ইসলাম ভূইয়া। তবে তিনি নিজেও অফিসে আসেন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে।
সকাল ৯টা ৩৭মিনিটের সময় নির্বাচন অফিসে গিয়ে দেখা গেল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও আশরাফুল হোসেন ও সহকারি উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা মো. শাহরিয়ার হক ভূইয়ার চেয়ার খালি পড়ে আছে। অফিস সহায়ক আলমগীর হোসেন জানান স্যারেরা জেলা সদরে মিটিংয়ে গেছে। তিনি একটি চিঠিও দেখান মিটিংয়ের। ৯টা ৪২মিনিট হলেও অফিসে আসেনি সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম ও মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। কথা ওই অফিসের অফিস সহায়ক আজহারুল ইসলাম সাথে।
তিনি বলেন, 'সিনিয়র স্যার মনে হয় ছুটিতে আছেন। আজকে বিকেলে চলে আসবেন। আর মৎস্য সম্প্রসারণ স্যার প্রদর্শনীতে গেছেন। তবে কোথাই প্রদর্শনী সেটা তিনি বলতে পারেননি।'
ঘড়ির কাটা তখন সকাল ৯টা ৫২মিনিট বাজে। স্থায়ী সরকার প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপ সহকারী প্রকৌশলী তাহসিলুর রহমানকে পাওয়া গেলেও উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সুমনকে পাওয়া যায়নি। অফিস সহায়ক আকরাম হোসেন জানান, স্যার মনে হয় ট্রেনে আছে। এসে পড়বে। সকাল ১০টা বাজে ঘড়িতে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামানের চেয়ার ফাঁকা। মাথার ওপরে পাখা ঘুরছে। মুখে হাসি নিয়ে কাছে এসে অফিস সহায়ক মো. নূরে আলম সিদ্দিক বলেন স্যার আসেননি।
৯টা ২১ মিনিটে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে অফিস সহায়ক ফোয়াদ খলিফা নবান্ন জানান সাব-রেজিস্টার সায়মন ইমতিয়াজ স্যার ডেপুটিশনে কসবা রয়েছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপসী রাবেয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাসুদ রানা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তামান্না ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কফিল উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. নূরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের এসএএস সুপারিনটেনডেন্ড টিটু কুমার নাথ যথা সময়ে স্ব স্ব কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।
নতুন নিয়মে অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। কিন্ত ওই নিয়মের প্রথম দিনেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত হতে পারেননি। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসে গিয়ে দেখা যায় বেশির ভাগ অফিসারকে যাওয়া যায়নি। ওই সব অফিসের সহায়কদের সঙ্গে তাদের কর্মকর্ত্রাা অফিসে না থাকার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন স্যার আসতেছে, রাস্তায় বা ট্রেনে আছে বলেন জানান।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার সরকারি কর্মকর্তারা সঠিক সময়ে অফিসে আসে না আবার আসলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান। বেশির ভাগ কর্মকর্তারাই সরকারি কোয়ার্টারে থাকেন না। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ঢাকা থেকে এসে অফিসন করেন। তারা ট্রেনে যায় আবার ট্রেনে এসে অফিস করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, শনিবারে সকল অফিসারদের নতুন অফিস সময় সূচী জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরও তারা যদি সময়মতো অফিসে না আসে তাহলে তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করানো হবে। তবে এত সকালে সেবা গ্রহিতারাও আসে না।