চাকরি জীবনের শুরুতেই দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া থেকে শুরু করে পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন এলজিইডির নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহসানুজ্জামান দুলালকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।
প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝরের ফেসবুক পোস্টে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্বপদে ফিরে আসেন। পরে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্বে থেকে শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণে আসেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে ওই বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (HILIP)-এ সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (DPD) পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন আহসানুজ্জামান দুলাল। ওই প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কাজের মান, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নেত্রকোনাসহ কয়েকটি এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, কাজের অগ্রগতি ছাড়াই বিল উত্তোলন এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজস্ব প্রভাব বলয় ব্যবহার করে ঠিকাদারি কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিছু ঠিকাদারের কাছে তিনি কমিশন গ্রহণকারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ আহসানুজ্জামান দুলাল। দায়িত্ব নেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর গুদারাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কদম রসুল ব্রিজ প্রকল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের মতবিরোধ তৈরি হয়। এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জরুরি তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বুয়েটের পরীক্ষাগারে মান যাচাইয়ের পরও ওই উপকরণ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি করেছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন আহসানুজ্জামান দুলাল। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, দীর্ঘ চাকরি জীবনে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।