নাগরিককে দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সব শহীদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ধারাবাহিক আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন। ‘আয়নাঘর’ নামের বর্বর বন্দিশালাগুলো যেন জ্যান্ত মানুষের কবরস্থানে পরিণত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ১৪ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩১ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
ভাষণে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, আমি তাদের সবার মাগফেরাত কামনা করছি। আহতদের প্রতি গভীর সহানুভূতি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে মানুষ জীবন দিয়েছেন একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আজকের দায়িত্ব।
আগামী দিনের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশে অর্ধেকের বেশি নারী এবং একটি বিশাল অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। নাগরিকদের শক্তিশালী করাই রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি।
তিনি বলেন, “বিএনপির প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হবে বেকার সমস্যা নিরসন। ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।”
তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিনামূল্যে কারিগরি শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা, ডাটা প্রসেসিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নতুন শিল্প গড়ে তোলা হবে।
এ ছাড়া শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদি ‘বেকার ভাতা’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি বলেও জানান তিনি।