বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই ইউনিয়নের দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এলাকায় মাইকিং করে তাকে খোঁজা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরে রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে নাঈম হোসেন নামে এক যুবককে আটক করা হয়।
এদিকে, নাঈমকে ছাড়িয়ে নিতে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতার তাড়া খেয়ে নাঈম পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার বাবা অটোচালক পান্নু মিয়া (৩৫) ও চাচা ফজলু মিয়া (২৮) গণপিটুনির শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত হন নাঈমের ভাই নাজমুল হোসেন।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়রা তিনজনকে গণপিটুনি দেয়, যার মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
ওসি মো. ইকরাম হোসেন বলেন, 'শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে গণপিটুনির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।