পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, হয়রানি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলাপাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ সিকদার।
শনিবার (১ আগস্ট) কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, গত ২৯ জুলাই কয়েকটি জাতীয়, স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ূন সিকদারের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর।
লিখিত বক্তব্যে দেবাশীষ সিকদার বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ন্যায়বিচারের আশায় তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতির শরণাপন্ন হলে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধপূর্ণ জমিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। প্রথমে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন চলাকালে প্রকাশ্যে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানার পক্ষে রেকর্ড সংশোধন, আদালতের আদেশসহ প্রয়োজনীয় ভূমি-সংক্রান্ত নথিপত্র তার কাছে রয়েছে। এরপরও প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তার ও পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির বিরোধের বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয়, কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর জে.এল. নীলগঞ্জ মৌজার পিএস ১০৮ নম্বর খতিয়ানের ৭৮২২ নম্বর দাগসহ মোট ১০টি দাগে ৭ দশমিক ৪১ একর জমির রেকর্ডভুক্ত মালিক ছিলেন পূর্ণচন্দ্র হাওলাদার। পরবর্তীতে আরএস ১৪৫ নম্বর খতিয়ানে ভুলবশত পরেশ চন্দ্র মণ্ডলের নামে ৮ আনা অংশ রেকর্ড হয়। পরে পরেশ চন্দ্র মণ্ডল রেজিস্ট্রিকৃত ১২৩৪ নম্বর না-দাবি দলিলের মাধ্যমে ৩ দশমিক ৭১৫০ একর জমির দাবি প্রত্যাহার করেন। এরপর এসএ ১৭৩ নম্বর খতিয়ানে ১৯৭১-৭২ সালের ১১৫৬ নম্বর মিউটেশন মামলায় পূর্ণচন্দ্র হাওলাদারের নামে জমি সংশোধিতভাবে রেকর্ড হয়।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএস জরিপের সময় বাড়ির ০ দশমিক ৩৬ শতাংশ জমি পুলিন চন্দ্র হাওলাদারদের নামে রেকর্ড হলেও অবশিষ্ট জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ অবস্থায় অর্পিত সম্পত্তি ফেরতের দাবিতে পূর্ণচন্দ্র হাওলাদারগণ কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং ৩২৬/২২ দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে দোতরফা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অভিযোগ করা হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবাদীপক্ষ বিরোধীয় জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেবাশীষ সিকদার বলেন, বর্তমানে তার কাকা পুলিন চন্দ্র হাওলাদারের পরিবারের চারটি পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি ও তার উত্তরাধিকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।