মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এখন এই দ্বীপের দিকে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে খার্গ দ্বীপে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।
তবে এই চিন্তা নতুন নয়। ১৯৮৮ সালেই এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিলেন এবং প্রয়োজনে খার্গ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্যে কিছুটা দ্বৈততা দেখা গেছে। একদিকে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার কথা বলেছেন, অন্যদিকে আবার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ দখল করতে হলে বড় আকারের সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে প্যারাট্রপার ও মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে। এসব বাহিনী সম্ভাব্য অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। ইরান দ্বীপটিতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যার মধ্যে রয়েছে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অভিযান সফল করতে হলে স্থল, নৌ ও আকাশপথে সমন্বিত এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিকল্পনা প্রয়োজন—যা আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম জটিল অপারেশন হিসেবে বিবেচিত।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দখলের পর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। ইরান রকেট, আর্টিলারি এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে দ্বীপটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। বিশেষ করে ‘শাহেদ’ ধরনের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন ব্যবহার করে আকস্মিক হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও খার্গ দ্বীপের গুরুত্ব অনেক। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্বীপটি দখল করলেই ইরানের অর্থনীতি তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে—এমন ধারণা অতিরঞ্জিত। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তেল রপ্তানি কমে গেলেও ইরান বিকল্প উপায়ে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
এ কারণে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দ্বীপ দখলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপের পরিবর্তে সমুদ্রপথে অবরোধ বা নির্দিষ্ট স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকির বিকল্প হতে পারে।
সব মিলিয়ে খার্গ দ্বীপ এখন শুধু একটি ভূখণ্ড নয়—এটি হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য সংঘাতের কৌশলগত কেন্দ্র, যা যেকোনো সময় মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।