চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গেজেটধারী জুলাই যোদ্ধা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির কার্যকরী নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মঈন উদ্দীন মাহিনের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার বদুরপাড়া রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে আহতদের স্বজন ও সহকর্মীরা দাবি করেছেন। অভিযোগের খবর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পটিয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে নগরপাড়া অতিক্রম করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে বদুরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি গাড়িতে করে অনুসরণ করা ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় হামলাকারীরা তাঁদের মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
আহতদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীর অনুসারীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। জানা গেছে, ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ায় জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের একটি অংশ আপত্তি জানিয়ে আসছিল। এ নিয়ে গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি প্রার্থীকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করে নানা বক্তব্য প্রচার করা হয়।
আহতদের স্বজন ও সহকর্মীদের দাবি, এসব প্রতিবাদ কর্মসূচি বন্ধ করতে আগেও তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে গভীর রাতে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আহমদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারা তাঁদের আবেগের অংশ হলেও এলডিপি, এনসিপির একটি অংশ ও জামায়াতে ইসলামী জোটভুক্ত। তাঁর দাবি, একটি চিহ্নিত দুর্বৃত্ত চক্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বদুরপাড়া এলাকায় কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াছ খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ছায়া তদন্ত চলছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।