জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে নির্ধারিত ৫০ টাকা নেওয়া হলেও অনেকের হাতে দেওয়া হয়েছে শিশুদের জন্য নির্ধারিত ২০ টাকার টিকিট। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী দর্শনার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাদুঘরের টিকিট কাউন্টারের সামনে উপস্থিত কয়েকজন দর্শনার্থী এমন অভিযোগ করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক দর্শনার্থীকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, আমার বয়স ২১ বছর। অথচ আমাকে ৫০ টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে শিশুদের জন্য নির্ধারিত ২০ টাকার টিকিট।
একইভাবে আরও কয়েকজন দর্শনার্থী দাবি করেন, ৫০ টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ২০ টাকা সমমূল্যের টিকিট দেওয়া হয়েছে। তাদের থেকে অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে ৩০ টাকা।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে টিকিট কাউন্টারে গেলে তারা বক্তব্য দিতে চাননি। বলেন, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বক্তব্য দেবেন। তবে প্রথম দিনেই এমন অনিয়মের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রথম দিন যারা জুলাই আন্দোলনের নানা স্মৃতিস্মারক দেখতে এসেছেন।
আজ সকাল থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরটিতে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি, আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আজ প্রথম দিনের জন্য বরাদ্দ থাকা মোট ৯০০টি টিকিট, যা গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থী মূল ভবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। এর জন্য অনলাইন বুকিং ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। প্রতিদিন তিনটি নির্দিষ্ট স্লটে ৩০০ জন করে দর্শনার্থীকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
সকালের স্লটে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা, দুপুরের স্লটে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং সন্ধ্যার স্লটে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যাবে। তবে টিকিটের গায়ে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের ফাঁকা স্লট বেছে নিতে হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে