জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জুলাই শহীদ রাসেলের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রা ও জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ের সামনে নির্বাচনি পদযাত্রার সূচনালগ্নে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “এনসিপির পক্ষ থেকে দশ দিনব্যাপী নির্বাচনি সফর শুরু করছি। যেসব আসনে আমাদের প্রার্থী রয়েছে এবং যেসব গুরুত্বপূর্ণ শহরে এনসিপি শক্তিশালী, সেখানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছি। এগারো দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এই ৩০টি আসনে আমরা নির্বাচন করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রচারণার মূল লক্ষ্য হবে সুশাসন, রাষ্ট্র সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত করার জন্য আমরা প্রচারণা চালাব। আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, সেই স্বপ্ন ও আমাদের ইশতেহারের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।”
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা করছি। বিশেষ করে আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চোখে পড়ছে। আগে ক্ষমতাসীনরা ৪০–৫০ জন আইনজীবী পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করত। এখন দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন আসনের প্রান্তিক এলাকা থেকে লোকজন এনে মব তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। “আমরা দ্বৈত নাগরিকরা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি,”—বলেন তিনি।
মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় প্যাডে বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনের সাংবাদিকদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, “বিজ্ঞাপনের মোড়কে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রচারণা চালানো হচ্ছে, এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন আকারে দলীয় প্রচারণার সুযোগ থাকে, তাহলে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লাসহ সব দলকেই সমান সুযোগ দিতে হবে।”
সাবেক এই সমন্বয়ক জানান, নির্বাচনি পদযাত্রার মাধ্যমে এনসিপি জোটের সব প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবে। “আমরা একদিকে না গিয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ার কৌশল নিয়েছি, যাতে আমাদের বার্তা সারাদেশে পৌঁছে যায়। আমাদের দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি জোটের প্রার্থীদের জন্যও প্রচারণা চালানো হবে,”—বলেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।