ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য উইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নির্বাচনী প্রস্তুতি, গণতন্ত্র, নারী ও সংখ্যালঘু অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, '২০১৩ সাল থেকেই জামায়াতে ইসলামীর ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা চলছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগের অপব্যবহারের মাধ্যমে দলের নিবন্ধন বাতিল ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়।'
নিবন্ধন বাতিল, গণগ্রেপ্তার ও দমনপীড়নের মধ্যেও জামায়াত জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখেছে দাবি করে তিনি বলেন, '২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দলটির ফলাফল সংগঠনের শক্তি ও জনসমর্থনের প্রমাণ।'
নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকা সময়কে শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'ওই সময়গুলোতে সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুসংহত হয়েছে এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হয়েছে। গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য জরুরি—২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটবদ্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এ শিক্ষা পাওয়া গেছে।'
জামায়াতকে ক্যাডারভিত্তিক মতাদর্শিক দল হিসেবে আখ্যা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দলটির আদর্শের মূল ভিত্তি শৃঙ্খলা, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও জনসেবা। দুর্নীতি ও সুবিধাবাদে মানুষের রাজনীতির প্রতি আস্থা নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে ভোটাররা নীতিনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য রাজনীতি চায়, এটিই জামায়াতের শক্তি।'
তরুণ ভোটারদের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, 'কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিকে দলটি অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাতে তরুণেরা দেশেই মর্যাদাপূর্ণ কর্মজীবন গড়তে পারে। তরুণদের সমস্যা নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখছে জামায়াত।'
দলের অতীত নিয়ে সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'জামায়াত নৈতিক দায়বদ্ধতায় বিশ্বাসী। ১৯৪৭ সালের পর জামায়াতের কোনো সদস্যের কর্মকাণ্ডে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমরা।'
গণতন্ত্র, নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার বিষয়ে তিনি বলেন, 'জামায়াত বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাসী। সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।'
নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে জামায়াতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় নারী, সংখ্যালঘু, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে দলের নীতিমালায়।'