আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলকে লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। এ সময় তিনি জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজাকে নিয়েও কড়া ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন যুবদল সভাপতি।
আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, বিএনপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও গণজোয়ারে আতঙ্কিত হয়ে একটি বিশেষ মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে যুবদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় নেমেছে। তিনি বলেন, জনগণের রায় কোনো কাগজে-কলমে লেখা স্ক্রিপ্ট নয়, এটি মানুষের হৃদয়ের ভাষা, যা এখন স্পষ্টভাবে বিএনপির পক্ষেই রয়েছে। এই অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েই কুৎসা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অপপ্রচারের চিত্র তুলে ধরেন মুন্না। তিনি জানান, পটুয়াখালীর বাউফলে একটি ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হাতাহাতির ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিয়ে যুবদলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে যুবদলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তি একজন শহীদ সাংবাদিকের পরিবারের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত।
কুষ্টিয়ার একটি ঘটনার উল্লেখ করে যুবদল সভাপতি বলেন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা একটি স্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে মিথ্যাচার করেছেন। ভিডিও ফুটেজে কোথাও হামলা বা বিশৃঙ্খলার প্রমাণ না থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নারীর সম্মান ও ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে নারীদের ওপর হামলা ও লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়ার মনগড়া অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে করিম ফিলিং স্টেশনে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ‘যুবদল নেতা’ হিসেবে প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান আবদুল মোনায়েম মুন্না। তিনি নথিপত্র উপস্থাপন করে বলেন, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবুল হাসান সুজন ২০১৯ সালে, প্রায় সাত বছর আগে, যুবদল থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। একজন সাবেক কর্মীকে বর্তমান নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভোলা ও নারায়ণগঞ্জের দুটি পৃথক ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পারিবারিক বিরোধ কিংবা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাকেও রাজনৈতিক তকমা দিয়ে যুবদলের নাম জড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে ভোলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই কেন যুবদলকে টার্গেট করে সাজানো নাটক ও মিথ্যা ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে—এই প্রশ্ন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে যুবদল সভাপতি বলেন, সংগঠনটি এসব অপপ্রচারের কাছে মাথানত করবে না। তিনি জানান, সুপরিকল্পিত এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথে ও আইনি লড়াইয়ে যুবদল কঠোর অবস্থান নেবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে তথ্য যাচাই করে দেখার আহ্বান জানান তিনি।