ট্রাম্প দাবি করেন, গত ৩২ দিনের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ‘দ্রুত, নির্ণায়ক এবং অপ্রতিরোধ্য বিজয়’ অর্জন করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রণালি অপরিহার্য নয়।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ভবিষ্যতে পারমাণবিক হুমকি দেখা দিলে ‘স্পট হিট’ বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে।
এদিকে, চলমান সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে।
ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত সাহসিকতার সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি ন্যাটোর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার খবর নাকচ করেছে। যদিও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে, তেহরান জানিয়েছে তারা সাময়িক নয়, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা চায়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরান বর্তমানে বড় ধরনের কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয়। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে একযোগে বড় হামলা চালানো হবে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের অনড় মনোভাবের কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।