সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংক শাখার সামনে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হলেও, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতের অর্থ এ প্রচারণায় ব্যবহারের বিষয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর মৌখিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতে এনজিওদের সিএসআর তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিলেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে জবাবদিহির মুখে পড়ার আশঙ্কায় দ্বিধায় রয়েছেন অনেক ব্যাংকার।
মতিঝিল, দিলকুশা ও পল্টন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি ব্যাংক শাখার প্রবেশপথে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণামূলক ব্যানার টাঙানো হয়েছে। কোথাও সরাসরি ভোট দেওয়ার আহ্বান, কোথাও ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’—এ ধরনের স্লোগানের মাধ্যমে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।
একাধিক ব্যাংকের সিএসআর–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লিখিত নির্দেশনা ছাড়া সিএসআর অর্থ ব্যয় করলে পরবর্তী সময়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই প্রজ্ঞাপন ছাড়া এই নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে।
গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সিএসআর তহবিল থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন। সভায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনসহ কয়েকজন এমডি বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে মাসরুর আরেফিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রতিটি ব্যাংক শাখায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যানার টাঙানোর নির্দেশনা এসেছে। পাশাপাশি যেসব এনজিও জনসচেতনতায় কাজ করবে, তাদের সিএসআর তহবিল থেকে সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। তিনি এ উদ্যোগকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অংশ।”
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি সংস্কারমুখী সরকার হওয়ায় জনগণকে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করাটা যৌক্তিক।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে—১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে। এবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে ঘিরে প্রস্তাবিত গণভোট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সূত্র: আজকের পত্রিকা