‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কী হবে, যা বললেন আলী রীয়াজ

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৯

সার্বভৌম জনগণের অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এটি কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। সে কারণে আইনি বিবেচনার বাইরেও এই রায় বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা বর্তায়।

শনিবার সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণভোটে উচ্চকক্ষ গঠন সংক্রান্ত রায় আইনগতভাবে রাজনৈতিক দলগুলো মানতে বাধ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংস্কার আদেশ ২০২৫’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়েই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। তাঁরা দুটি শপথ নেবেন—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। এই পরিষদের মেয়াদ হবে ১৮০ দিন। “নোট অব ডিসেন্ট” এখন জনরায়ে পরিণত হয়েছে এবং জনগণ এর বাস্তবায়ন চায়। আমরা আশা করি, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলসহ সব রাজনৈতিক দল এই জনআকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নেবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোটে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর ভিত্তিতেই জনরায় এসেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে সবারই প্রাজ্ঞতা আছে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে। আক্ষরিক ব্যাখ্যার চেয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যা সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে।

গণভোটে উচ্চকক্ষের বিষয়ে ‘সংখ্যানুপাতিক’ পদ্ধতির রায় এলেও বিজয়ী দলের ইশতেহারে ‘আসনানুপাতিক’ ব্যবস্থার কথা রয়েছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাদের ইশতেহারে আসনানুপাতিক ব্যবস্থার কথা বলেছে, যা তাদের দলীয় অবস্থান। তবে গণভোটে যে রায় এসেছে, সেটি ভিন্ন প্রকৃতির।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি অতীতেও বড় সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯১ সালে তারা সংসদীয় ব্যবস্থার কথা ইশতেহারে না রাখলেও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবিধানে সংসদীয় ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তাই এবারও জনরায় ও আলোচনার ভিত্তিতে তারা পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরতে চায় না—উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, অনেকেই কেবল গণভোটে অংশ নিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে নয়।

তিনি জানান, গণভোটে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ১৫ হাজার ২৩ জন এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬০ শতাংশ, যা সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এক শতাংশ বেশি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি মোটেও অস্বাভাবিক নয়। নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ভোটের হার এখনো সব আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলের ভিত্তিতে নয়; মাত্র তিনটি আসনের ফল যুক্ত হয়েছে। ৩০০ আসনের সম্পূর্ণ ফল এলে সংসদ নির্বাচনের ভোটের হারও বাড়বে এবং তা গণভোটের হারের সমান বা বেশি হতে পারে। তাছাড়া, কিছু ভোটার কেবল গণভোটেই অংশ নিয়েছেন, ফলে প্রায় ২ শতাংশের ব্যবধান স্বাভাবিক।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি সদ্য. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান সদ্য. আগে কখনো এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিমানবন্দর দেখিনি; মন্ত্রীকে জানালেন যাত্রীরা সদ্য. সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন সদ্য. আবারও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্পের পরাজয়ের খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সদ্য. দেশব্যাপী জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা সদ্য. রাজধানীতে ফুটপাত উচ্ছেদকালে ঘুষ লেনদেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর সদ্য. সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি সদ্য. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান সদ্য. আগে কখনো এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিমানবন্দর দেখিনি; মন্ত্রীকে জানালেন যাত্রীরা সদ্য. সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন সদ্য. আবারও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্পের পরাজয়ের খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সদ্য. দেশব্যাপী জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা সদ্য. রাজধানীতে ফুটপাত উচ্ছেদকালে ঘুষ লেনদেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর