গণভোট নিয়ে শেরপুরের শ্রীবরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরী অকুলের বক্তব্যকে ঘিরে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ১৯৭২ সালের সংবিধান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ থাকবে না—এমন মন্তব্য করতে দেখা যায় তাকে।
জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি রাতে শ্রীবরদী পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেপুর এলাকায় একটি উঠান বৈঠকে এই বক্তব্য দেন ফজলুল হক চৌধুরী অকুল। ভাইরাল হওয়া তিন মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে তিনি বলেন, গণভোটে কোনোভাবে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধান, যা শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ড. কামাল হোসেনের হাতে লেখা, তা পুরোপুরি মুছে ফেলা হবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর বাংলাদেশে থাকবে না এবং সংস্কারের নামে ৭১ সালের যুদ্ধের জায়গায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জামায়াতে ইসলামী চায়নি বলেই তারা সেই ইতিহাস বাদ দেওয়ার পক্ষে। একই বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আওয়ামী লীগ একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থগিত থাকবে, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না এবং আজীবনের জন্য মিছিল-মিটিংসহ সব রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। ২০২৪ সালের গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফজলুল হক চৌধুরী অকুল বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া হলে ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থাকবে না। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উদ্দেশে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল রক্ষার স্বার্থেই সবাইকে কেন্দ্রে গিয়ে ‘না’ ভোট দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সব দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ফজলুল হক চৌধুরী অকুলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শ্রীবরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সোহান বলেন, অকুলের দেওয়া বক্তব্য তার ব্যক্তিগত বিষয় এবং এর দায়ভার দল নেবে না। এ বিষয়ে পৌর বিএনপির কোনো মন্তব্য নেই।
তবে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল দাবি করেন, অকুলের বক্তব্যের ভিডিওটি কাটছাঁট করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে অকুল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবেন এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। সন্ধ্যার পর ওই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শেরপুর জেলা প্রধান সমন্বয়কারী ও শেরপুর-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী মো. লিখন মিয়া বলেন, শ্রীবরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়কের বক্তব্য তিনি দেখেছেন এবং তারা কেউই ‘না’ ভোটের পক্ষে নন। তার অভিযোগ, বিএনপি বরাবরই মিথ্যাচার করছে এবং ভারতের ইশারায় রাজনীতি করছে। এ বিষয়ে দলীয়ভাবে বিবৃতি দেওয়ার কথা ভাবছে এনসিপি।
জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান জানান, বিএনপি নেতার বক্তব্য তারা দেখেছেন, তবে এ নিয়ে দলীয়ভাবে এখনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, দেশের সংস্কারের লক্ষ্যে যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে জামায়াতে ইসলামী অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে।
শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ফজলুল হক চৌধুরী অকুলের সঙ্গে কথা বলেছেন। অকুল দাবি করেছেন, ভিডিওটি বিকৃত এবং এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি। বিষয়টি তিনি নিজেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাবেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, অকুল যেহেতু ভুল স্বীকার করেছেন, তাই এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।