নিহতরা হলো: বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল।
গাজিয়াবাদ পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার আগে তিন বোন নিজেদের ঘর ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়। ভোরবেলা যখন প্রতিবেশীরা ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখনই তারা ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে। বিকট শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের ঘুম ভেঙে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশের আগেই সব শেষ হয়ে যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তিন বোনই একটি বিশেষ কোরিয়ান অনলাইন গেমের প্রতি প্রচণ্ড আসক্ত ছিল। করোনাকালীন ঘরবন্দি সময় থেকে এই আসক্তির শুরু। গেমের ঘোরে তারা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এমনকি তারা নিয়মিত স্কুলেও যেত না। গেমের চরিত্রের অনুপ্রেরণায় তারা নিজেদের নামও বদলে কোরিয়ান নাম ব্যবহার করত।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গেমের প্রভাবে তাদের আচরণে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দেয়। তারা সবসময় একসাথে থাকত এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে দূরত্ব বজায় চলত। এই গেমিং আসক্তি নিয়ে প্রায়ই পরিবারে কলহ লেগেই থাকত।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। সেখানে কোনো দীর্ঘ অভিযোগ নেই, বরং কান্নার ইমোজি দিয়ে শুধু লেখা ছিল, ‘দুঃখিত, বাবা’।