চট্টগ্রাম থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী পদযাত্রা। আগামীকাল সোমবার বন্দরনগরীর বিভিন্ন এলাকায় পদযাত্রা ও ভোটের প্রচারণায় অংশ নেবেন দলটির নেতা-কর্মীরা। এতে দলের প্রধান নাহিদ ইসলামও যোগ দেবেন। তবে কর্মসূচি শুরুর আগেই চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্তত দুই নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পদত্যাগকারী নেতারা হলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও পার্বত্য অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক ইমন সৈয়দ এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বান্দরবান জেলার সদস্যসচিব এরফানুল হক। তাঁরা দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইমন সৈয়দ লেখেন, তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও পার্বত্য অঞ্চলের সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পূর্বে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন তিনি দলটির সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছেন।
উল্লেখ্য, এনসিপি ইমন সৈয়দকে চট্টগ্রাম-১৬ আসনে তাদের গণভোট প্রচারণার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিল।
এর আগে শনিবার এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন বান্দরবান জেলার সদস্যসচিব এরফানুল হক। বান্দরবান আসনে বাইরে থেকে প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
ফেসবুক পোস্টে এরফানুল হক লেখেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল নাগরিকভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সে লক্ষ্য সামনে রেখে এনসিপি গঠিত হলেও রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর একাধিক সিদ্ধান্তে জনগণ ও দলের নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়েছেন। দল গঠনের পর তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বান্দরবান আসনের প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বাইরে থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আত্মসম্মান ও মর্যাদায় আঘাত করা হয়েছে। পাহাড়ের বাস্তবতা ও সংগ্রাম না বোঝা ব্যক্তিকে প্রার্থী করায় স্থানীয় জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এরফানুল হক বান্দরবান আসনে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি নিজেও তাঁকে ভোট দেবেন বলে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন।