আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এক টাকার বরাদ্দে আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট এবং এ-সংক্রান্ত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
অধিবেশনে আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের জন্য দুই হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য বরাদ্দ এক টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকটের বিষয় তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, নিম্ন আদালত পৃথক করা হলেও পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়েও সমালোচনা করেন।
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, বিচার বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল। তার ভাষ্য, দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও বিভাগীয় শহরগুলোতে উচ্চ আদালতের বেঞ্চ স্থাপন কিংবা কাগজবিহীন বিচারব্যবস্থা চালুর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কেরামত আলী থানায় সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং তদন্ত কার্যক্রমের দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বরাদ্দের চেয়েও কম। তিনি দেশে ৫০ লাখের বেশি মামলাজটের পাশাপাশি প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের দুর্দশার কথাও উল্লেখ করেন।
সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সদস্যরা নিজেরাই যুক্তি তুলে ধরেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, তারা পোশাক পরিহিত আইনজীবীদের দিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করিয়েছেন।
ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক পক্ষ দাবি করছে বরাদ্দ বেশি, তাই তা এক টাকায় নামিয়ে আনা হোক। অন্য পক্ষ বলছে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এক টাকায় যদি আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালনার কথা বলা হয়, তাহলে বিচার বিভাগের আর প্রয়োজন থাকবে না, দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রস্তাব জনমুখী হলেও তা কার্যপ্রণালী বিধির ১১৮ বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, এক টাকার বরাদ্দে কীভাবে পুরো বিচার বিভাগ পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কোনো বিকল্প নীতির কথা ছাঁটাই প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বিচার বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও আপাতত এর কোনো বিকল্প নেই। তাই ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করে মূল বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য সংসদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।