বুধবার (১ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানবিরোধী যুদ্ধে জড়িয়েছে। তেহরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে মার্কিন মিত্রদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।'
ট্রাম্প বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের তেল বা অন্য কোনো সম্পদের ওপর আমাদের নির্ভরতা নেই। আমরা সেখানে গিয়েছি কেবল আমাদের বন্ধুদের সাহায্য করতে।'
৩৮ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে ‘অপ্রতিরোধ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই এগিয়ে গেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করে তিনি আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানির হত্যাকাণ্ডের ফলে কার্যত শাসন পরিবর্তন হয়ে গেছে। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা নেতৃত্বে থাকলেও তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প জানান, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশই আর সক্রিয় নেই।
ভাষণে তিনি ইসরায়েলসহ সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তবে ওমানের কোনো উল্লেখ করেননি—যদিও উপসাগরীয় এই দেশটি যুদ্ধের বিরোধিতা করে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, চলমান সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল তাদের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে না পারলেও ট্রাম্প এটিকে অস্থায়ী সমস্যা বলে উল্লেখ করেন।