সাংগঠনিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৩ সদস্যসহ মোট ১৫ জনকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিগুলোতে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়ামিন রহমান ও হান্নান মিয়া। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বুলবুল আহমেদ, হাসিব চৌধুরী, রাতিকুল ইসলাম, আরিফুল বাবু, শাওন খন্দকার, সাজ্জিদ হোসেন, রাশিকুল ইসলাম সাহিল, মঞ্জুরুল ইসলাম সুজন, সজীব মিয়া, মোহাম্মদ রিয়াদ আহাম্মেদ, মাসুদ রানা অনিক, তনয় শরীফ ও আশরাফুল ইসলাম অশ্রু।
পৃথক আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য কাজী সালমান রহমান, রানা মোঃ সোহেল ও মিরাজ হোসেনকে দায়িত্বশীল পদে থেকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে শোকজ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান বলেন, সংগঠনের কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা ও কর্মসূচি রয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই কেউ সংগঠনের কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে। কিন্তু বর্তমান কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত ছিলেন এবং বারবার জানানো সত্ত্বেও সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ক্যাম্পাসভিত্তিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি।
তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে অনেক কর্মী নিয়মিত ক্যাম্পাসে সক্রিয় থেকে সংগঠনের কাজ করছেন এবং বিভিন্ন পদের জন্য আবেদন করে ইতোমধ্যে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যারা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এবং সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখেননি, তাদের কারণে সংগঠন নানা সমস্যার মুখে পড়তে পারে। এ কারণেই সাময়িকভাবে তাদের পদ স্থগিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যদি ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হন এবং সংগঠনের নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে পুনরায় তাদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।