মহান বিজয় দিবস ২০২৫ সামনে রেখে কুড়িগ্রামে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজসজ্জা ও উৎসব আয়োজন। তিন দিনব্যাপী আড়ম্বরপূর্ণ বিজয় মেলার প্রস্তুতিও চূড়ান্ত। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশটিরও বেশি কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে বর্ণিল সূচি। তবে পুরো আয়োজনজুড়ে নেই ইসলামি সংস্কৃতি বা ধর্মীয় কোনো পর্ব। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
মাদ্রাসা শিক্ষক, আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—“মুসলিম অধ্যুষিত একটি জেলার বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে ইসলামি সংস্কৃতি কেন নেই? বিজয় দিবস কি কেবল সাজসজ্জা ও মঞ্চকেন্দ্রিক বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? ধর্মীয় মূল্যবোধ বাদ দিয়ে কি স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করা যায়?”
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৬ ডিসেম্বর উদযাপন সংক্রান্ত চূড়ান্ত কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, এবার নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তি, হাডুডু, ক্রিকেট ও ফুটবল প্রতিযোগিতাসহ তিন দিনব্যাপী চারু ও কারু মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কর্মসূচিতে নেই কোরআন তিলাওয়াত বা কেরাত প্রতিযোগিতা, হামদ-নাত কিংবা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোনো ইসলামিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনেকের মতে, এটি শুধু অবহেলা নয়—বরং ৯৩ দশমিক ৮ শতাংশ মুসলমানের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আড়াল করার এক ধরনের অঘোষিত প্রবণতা।
দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি সংগীতচর্চায় যুক্ত কুড়িগ্রামের ‘ভোরের পাখি’, ‘স্বপ্নসিঁড়ি’, ‘ধরলা’ ও ‘দুর্বার’ শিল্পীগোষ্ঠীর নেতারা জানান, জেলা ও উপজেলায় ইসলামি সংগীতের পরিচিত নাম হয়েও বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে তাঁদের কোনো স্থান নেই—এটি তাঁদের জন্য চরম হতাশার।
তবে তিনি জানান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘শীতকালীন প্রতিযোগিতা’ নামে একটি পৃথক আয়োজন রাখা হয়েছে।