পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষের জেরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখেন জামায়াত কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণার উদ্দেশ্যে বাউফলের বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে যান জামায়াতের একদল কর্মী-সমর্থক। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পর বিকেল চারটার দিকে বাউফল থানার সামনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারকে বহনকারী গাড়ি জামায়াত সমর্থকরা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। পরে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার হস্তক্ষেপে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ধানের শীষ সমর্থকদের ওপর জামায়াতের হামলা ছিল পরিকল্পিত ও সংগঠিত। সংঘর্ষের কারণে পুরো এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে এবং চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে এবং এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ জানান, চন্দ্রদ্বীপে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনার পর বাউফল উপজেলা ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র এলাকাজুড়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচনি প্রচারণার পরিবেশ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় ভোটের মাঠ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: যুগান্তর