আসন্ন গণভোটে বিএনপি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও গোপনে ‘না’–এর পক্ষে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার রাতে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাত আটটার দিকে কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পথসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি প্রকাশ্যে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে থাকলেও বাস্তবে তারা ভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ওপেন ও গোপনের এই রাজনীতি বন্ধ করে জনতার কাতারে নেমে এসে গণভোটে মুখে যা বলা হবে, কাজে সেটিই করতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে আগামী সংসদে ক্ষমতার কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
দেশে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করতে ভোটারদের গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় জাতীয় পার্টিকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভারতের একটি রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টি না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। তিনি দাবি করেন, ভোটের মাধ্যমেই ১২ তারিখ জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে এবং সেটিকেই তিনি তাদের ‘আনুষ্ঠানিক দাফন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খানসহ দলটির অন্যান্য নেতারা।
রংপুর-৪ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ আখতার হোসেনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আখতার হোসেন শুধু কাউনিয়ার গর্ব নন, তিনি দেশের যেকোনো আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা রাখেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আখতার হোসেনের জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। তিনি দাবি করেন, যখন গণমাধ্যম ও প্রশাসন নীরবতা পালন করছিল এবং অনেকেই নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় নির্যাতন উপেক্ষা করেছিল, তখন আখতার হোসেন একাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।