আওয়ামী লীগ পরোক্ষভাবে বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছে এবং বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করছে—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমীন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মনিরা শারমীন বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও তাদের বর্তমান ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাঁর দাবি, বিএনপির সমাবেশে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইছে। এতে প্রমাণ হয়, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরোক্ষভাবে বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছে এবং বিএনপি সেই সমর্থনকে ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি এটিকে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা আখ্যা দিয়ে বলেন, এর জবাব জনগণ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে দেবে।
বিএনসিসিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির দাবির পর এক দিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন বিএনসিসিকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর মতে, একটি সুশৃঙ্খল ও সংগঠিত শক্তিকে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মনিরা শারমীন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি দলের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সেখানে বিএনসিসির মতো একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ফোর্সকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া তিনি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রজনতাকে অর্থ দিয়ে কেনা যায় না এবং তাদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স দখলের মতো কর্মকাণ্ড সম্ভব নয় বলেই এই তরুণ শক্তিকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। এতে স্পষ্ট হয়, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কীভাবে একটি দলের স্বার্থ রক্ষা করছে।
এনসিপির এই নেত্রী আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও পুলিশও কার্যত একটি দলের কর্মীর মতো আচরণ করছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থেকে যায়। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সক্ষম হবে কি না, সে বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।