বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগে ক্ষোভ-হতাশা

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩০
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশের পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করতে সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এসব অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অধ্যাদেশ দুটি বাতিল হলে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ৫ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিচারকদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই; বরং বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ। বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসাইন ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষর করেন।

তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে বিল আকারে আনা হবে। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

টিআইবি ৩ এপ্রিল দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধস্তন আদালতের বিচারকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, অধ্যাদেশ বাতিল হলে বিচারকদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আবারও আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যেতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিচারকদের মধ্যে আলোচনা হলেও কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিবৃতিতে আরও জানায়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সংগঠনটি প্রত্যাশা করছে, যথাযথ পর্যালোচনার পর অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে পরিণত হবে এবং বিচার বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য ৪৬ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। ১৯ জন কর্মচারী পদায়ন করা হয়েছে, অন্যদের নিয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন চলছে। সচিবালয়ের জন্য ১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ভবনের কাজ এপ্রিলেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া বলেন, অধ্যাদেশ দুটি বাতিল হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁর মতে, আইন আকারে পাস করে পরে প্রয়োজন হলে সংশোধন করা যেত, কিন্তু তা না করে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় টানাপোড়েন তৈরি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে বিচার বিভাগ পৃথক করার উদ্যোগ দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ছিল। পরে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়। ১৯৯৪ সালে জেলা জজ মাসদার হোসেনের রিটের পর ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ বিচার বিভাগ পৃথক করার নির্দেশ দেয়। এরপর ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগ পৃথক করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। তবে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল।

২০২৪ সালে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে রিটের পর হাইকোর্ট রায়ে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার নির্দেশ দেয় এবং তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দেয়। সেই প্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য দুটি অধ্যাদেশই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বিল আকারে আনবে বলেছে, তাই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে আইন প্রণয়ন না হলে রাজনৈতিকভাবে সরকারের ক্ষতি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিচার বিভাগ পৃথককরণ মামলার বাদী মাসদার হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছরে বিচারক নিয়োগে কোনো নির্দিষ্ট আইন ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে যে কাঠামো তৈরি হয়েছে, তা বাতিল করা হলে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তিনি অধ্যাদেশগুলো বহাল রেখে প্রয়োজনে পরবর্তীতে সংশোধনের পরামর্শ দেন। সূত্র: আজকের পত্রিকা

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের দিকে নজর রাখছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল সদ্য. গণভোটের রায় উপেক্ষার অভিযোগ, সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন করল কয়েকটি ছাত্রসংগঠন সদ্য. এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ সদ্য. দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা সদ্য. নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ সদ্য. জাতীয় সংসদের নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান সদ্য. লক্ষ্মীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ-ছুরিকাঘাত, বিএনপি নেতাসহ আহত ৪ সদ্য. নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একমত ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিক শেখ মারা গেছে সদ্য. দলীয় এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বিএনপি নেতার সদ্য. বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের দিকে নজর রাখছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল সদ্য. গণভোটের রায় উপেক্ষার অভিযোগ, সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন করল কয়েকটি ছাত্রসংগঠন সদ্য. এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ সদ্য. দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা সদ্য. নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ সদ্য. জাতীয় সংসদের নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান সদ্য. লক্ষ্মীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ-ছুরিকাঘাত, বিএনপি নেতাসহ আহত ৪ সদ্য. নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একমত ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিক শেখ মারা গেছে সদ্য. দলীয় এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বিএনপি নেতার