রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও পলায়নের পর এই ভোট দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বড় ভূমিকা পালন করছে জেনারেশন জেড, যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
রয়টার্সের রিপোর্টে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। অনেক দল নির্বাচন বর্জন করেছে বা নেতাদের গণগ্রেপ্তারের কারণে কার্যত নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে ছিল। তবে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে।
এখন ভারতে পলাতক অবস্থায় থাকা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, তাদের দল ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে স্পষ্ট রায় আসলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। কয়েক মাসের অস্থিরতায় তৈরি পোশাক খাতসহ বড় শিল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের জন্য বড় ধাক্কা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও চীনের প্রভাবকেও নতুনভাবে নির্ধারণ করবে।
জামায়াত ও তাদের জোট নতুন দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এবার ভোটে শক্ত প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তবে নির্বাচনে ভোটারদের মূল আকর্ষণ ধর্মীয় অবস্থান নয়; দুর্নীতি, অর্থনীতি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান পরবর্তী সরকারপ্রধান হওয়ার সম্ভাব্য নেতা হিসেবে আছেন। তবে যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট বড় ভূমিকা রাখে, তাদের চেয়ারম্যান ডা. শফিকুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় থাকতে পারেন।