ভোটার নয়, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে ‘চিন্তা’ জামায়াতের

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৮

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি ও জামায়াতের জোট। তবে নির্বাচনের আগের দিনও প্রশাসনের ভূমিকা, ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ এবং ফলাফল সঠিকভাবে প্রকাশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

নির্বাচনী জনসভা, গণমিছিল, জনসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যাপক জনসমর্থন মিলছে দাবি করলেও জামায়াত নেতারা বলছেন, ভোটের দিন জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কিনা—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দলটির অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা, হেনস্তা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। অন্তত ৪৬টি উপজেলায় নারীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি জামায়াতের। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, প্রশাসন এখনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে পারেনি। তার অভিযোগ, কোথাও কোথাও প্রশাসন বিতর্কিত ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য একরকম, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের আচরণ আরেকরকম—এতে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।”

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াত নেতাকে হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এমন ঘটনা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তার মতে, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা না রাখলে সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা দেখছেন না নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের সামর্থ্যের আলোকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা এবং নেতাদের নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকার পরও যদি বিশৃঙ্খলা ঘটে, তা হবে দুর্ভাগ্যজনক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, দুই জোটের নেতাদের বক্তব্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস স্পষ্ট। তিনি বলেন, একদিকে ধর্মীয় আহ্বান, অন্যদিকে ফলাফল নিয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে ভোটের আগের রাতে নির্বাচন ঘিরে শঙ্কা ও আশার মিশ্র চিত্রই ফুটে উঠছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপরই এখন নির্ভর করছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে। সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. ‘শুধু সার চেয়েছিল, এখন ঘরছাড়া’, গ্রেপ্তার আতঙ্কে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা সদ্য. গুলশানে নতুন ডিসি, খিলগাঁওয়ে নতুন ওসি পদায়ন সদ্য. ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে হাসপাতালে ৩৫ শিক্ষার্থী সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সদ্য. দুবাইয়ে শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুম আর নেই, ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. ‘শুধু সার চেয়েছিল, এখন ঘরছাড়া’, গ্রেপ্তার আতঙ্কে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা সদ্য. গুলশানে নতুন ডিসি, খিলগাঁওয়ে নতুন ওসি পদায়ন সদ্য. ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে হাসপাতালে ৩৫ শিক্ষার্থী সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সদ্য. দুবাইয়ে শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুম আর নেই, ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক