জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মনে রাখতে হবে যে মায়ের দামাল সন্তানেরাই চব্বিশে জগদ্দল পাথরের মতো হিমালয়সম ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে। সেই সন্তানেরা ঘুমিয়ে পড়েনি, তারা এখনো জেগে আছে। ভবিষ্যতে জনগণের ভোট নিয়ে কেউ অন্য কোনো চিন্তা করলে এই যুবকেরা সিংহ হয়ে গর্জন করবে। সিংহের থাবা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই নিজের ভোট ছাড়া কারও ভোটের দিকে হাত বাড়াবেন না।
তিনি বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’—এই স্লোগান এখন অচল। সেই দিন শেষ। এখন আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোট তুমি দাও। আমি যাকে পছন্দ করি তাকে দেব, তুমি যাকে পছন্দ করো তাকে দাও। এটিই গণতন্ত্র, এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশ শুধু একজনের নয়, এই দেশ সবার। সাধারণ মানুষ থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সবাইকে নিয়েই দেশ। সবার দায়িত্ব আছে এবং সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই একটি সভ্য দেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, যে দেশে পথে-ঘাটে সর্বত্র চাঁদাবাজি চলে, সেই দেশকে এখনো সভ্য বলা যায় না।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত চাঁদাবাজদের সহযোগিতা করবে—এই কথার অর্থ চাঁদা দিয়ে সাহায্য করা নয়। বরং তাদেরকে আহ্বান জানানো হবে, তোমরাও আমাদের সন্তান, চাঁদাবাজি ছেড়ে দাও। খাদ্যের অভাব হলে আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন, তা ভাগাভাগি করে খাওয়া হবে, তবুও হারামের পথে হাত বাড়ানো যাবে না। মানুষের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা নিয়ে কষ্ট দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে শিল্পপতি—সবাই এই চাঁদাবাজদের কারণে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। মানুষের অভিশাপের পাত্রে পরিণত হয়েছ। তওবা করে ফিরে এলে জামায়াত তাদের বুকে টেনে নেবে এবং শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করে কাজের সুযোগ করে দেবে।
তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে অসম্মান করতে চান না তারা। যে যুবকেরা অধিকার আদায়ে লড়াই করে জীবন দিতে জানে, তারা বেকার ভাতার জন্য সংগ্রাম করেনি। তারা সংগ্রাম করেছে তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার জন্য। জামায়াত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যুবকদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করা হবে এবং মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়া হবে। তখন তারা গর্বের সঙ্গে বলবে, আমিই বাংলাদেশ। এই দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, এখন আমি আমার দেশকে দিতে চাই।
জামায়াতের আমির বলেন, এই দেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। সবাই মিলে দেশটিকে ফুলের বাগানের মতো করে গড়ে তোলা হবে। সব ধর্মের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে, অধিকার আদায়ে আলাদা করে লড়াই করতে হবে না। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই দেশ গড়ার কাজে অংশ নেবে। সরকার দেখবে না তিনি কোন দল বা ধর্মের, দেখবে তিনি যোগ্য কি না এবং তার মধ্যে দেশপ্রেম আছে কি না। এটুকুই যথেষ্ট। তিনি সম্মানের সঙ্গে কাজ পাবেন এবং মর্যাদার জীবন যাপন করবেন।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. সৈয়দ একেএম সরোয়ার উদ্দীন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট এবং ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম।