ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে এবং কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসী’ কার্যকলাপ রুখতে সোমবার সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, ‘সোমবার ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে শহীদ মিনারে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভারতপন্থী কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। শহীদ মিনার থেকেই ভারতীয় আগ্রাসন ও আওয়ামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। দেশপ্রেমিক সব রাজনৈতিক দলকে আমরা এই সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘তার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ইনকিলাব মঞ্চ ও তার পরিবার সম্মিলিতভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিকিৎসকদের সম্মতি পেলেই তাকে বিদেশে পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করা হয়েছে।’
ওসমান হাদির ওপর হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘হামলার পর দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা নিজেরা তথ্য সংগ্রহ না করে আমাদের কাছ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছে। অথচ হামলাকারীদের গতিবিধি অনুসরণ করে দ্রুত গ্রেপ্তার করাই ছিল তাদের দায়িত্ব।’
তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, ‘যদি ওসমান হাদির কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় ঘণ্টা তখনই বেজে উঠবে। ছাত্র-জনতাই এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারাই প্রয়োজনে নামিয়ে দেবে।’