বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে: দ্য ইকোনমিস্ট

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৮

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীর্ষে রয়েছেন।

২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যার এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি উল্লেখ করে, খ্যাতিমান রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে শক্ত দাবিদার।

বিশ্লেষণে বলা হয়, এই নির্বাচনটি ১৮ মাস আগে ঘটে যাওয়া এক ‘বিপ্লব’-এর পর প্রথম ভোট, যখন ‘জেনারেশন জেড’ আন্দোলনকারীরা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের হত্যাযজ্ঞ ও দুর্নীতিতে ভরা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়।

প্রতিবেদনটি আরও বলেছে, গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামতের সূচনা করবে।

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এই মূল্যায়ন এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুরূপ বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতায়।

দ্য ইকোনমিস্ট ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য তুলে ধরে জানায়, বুলেটপ্রুফ বাসে ফেরার পথে উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা রাস্তায় ভিড় জমান এবং বাসটি কয়েক মাইল ধীরগতিতে এগোয়, যেন অপেক্ষমাণ মানুষ তাঁকে ভালোভাবে দেখতে পারেন।

সাময়িকীটির মন্তব্য, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক বিআইপিএসএস-এর শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর জীবনের দুই দশক ধরে ভোটের কোনো মূল্য ছিল না। তিনি আরও জানান, এখন রাজধানীর রাস্তাঘাটজুড়ে নির্বাচনী ব্যানারে ছেয়ে গেছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধানই হবে শেষ দায়িত্ব। তবে অধিকাংশ মানুষ একমত যে, সরকারটি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়া ঠেকাতে সহায়ক হবে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন একটি উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে বলা হয়, দলটি নির্বাচিত হলে সব বাংলাদেশির জন্য সংযত শাসনের দাবি করলেও তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়, দলটি এবারের নির্বাচনে একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি এবং যে দলটি আগে কখনও সংসদে ১৮টির বেশি আসন পায়নি, তাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

প্রতিবেদনটি বলছে, এসব পরিস্থিতি মিলেই রহমানের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপি জনমত জরিপে এগিয়ে আছে।

দ্য ইকোনমিস্ট স্মরণ করিয়ে দেয়, দীর্ঘদিন দলটি পরিচালিত হয়েছে তাঁর প্রয়াত মা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, তার আগে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁর বাবা, যিনি বাংলাদেশের একজন প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে তিন দফা ক্ষমতায় আসে।

সাময়িকীটি জানায়, বিস্তারিত পরিকল্পনা না দিলেও তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তাঁর দল বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে এবং আরও বেশি তরুণ বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেবে, যাতে তারা বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি পেতে পারে।

তিনি পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, রহমান মনে করেন তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন এবং তাঁকে দক্ষ ও বাস্তববাদী একজন ব্যবসায়ী হিসেবে দেখেন।

দ্য ইকোনমিস্ট আরও লিখেছে, রহমানের মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রহমানের যুক্তি—২০২৪ সালের বিপ্লব দেখিয়ে দিয়েছে, যেসব সরকার জনগণের জন্য কোনো কার্যকর কর্মসূচি রাখে না, তাদের পরিণতি কী হতে পারে। তাঁর ভাষায়, প্রতিশোধপরায়ণতা কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

দেশে ফেরার পর থেকে তিনি মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক কথাই বলেছেন। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এখনো অনেকেই ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যদি অন্য পক্ষ জিতে যায়—এই আশঙ্কায়।

 

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণ, ‘আমাদের’ বিরাট পদোন্নতি বলে উচ্ছ্বসিত ড. ইউনূস সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ বরখাস্ত ৬ কর্মকর্তা সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিস্ফোরক মামলার আসামি দুই বছর আগে ক্যান্সারে মারা যাওয়া যুবলীগ নেতা সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণ, ‘আমাদের’ বিরাট পদোন্নতি বলে উচ্ছ্বসিত ড. ইউনূস সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ বরখাস্ত ৬ কর্মকর্তা সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিস্ফোরক মামলার আসামি দুই বছর আগে ক্যান্সারে মারা যাওয়া যুবলীগ নেতা সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে