ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজনীতি করতে না পারলে কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা বিএনপির এক নেতা। গতকাল রোববার দুপুরে কলেজ অডিটোরিয়ামে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর যদি সশরীরে উপস্থিত হয়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়ানক রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যদি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে রাজনীতি করতে না পারে, তাহলে সেখানে কোনো রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না এবং ছাত্ররাজনীতি বন্ধ থাকলে মেডিকেল কলেজও বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, মেডিকেলে রাজাকারের আশীর্বাদপুষ্ট রাজনীতি চলবে অথচ মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও সংগঠক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজনীতি করতে পারবে না—এটি তিনি মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে আবার ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে তিনি পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার ইঙ্গিত দেন।
এই বক্তব্য দেওয়ার সময় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. খান মো. আরিফ উপস্থিত ছিলেন। ড্যাব ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক সৈয়দ আসিফ উল আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী ফারিয়ান ইউসুফ, ড্যাব ফরিদপুর জেলার আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান ও সদস্যসচিব তানসিভ জুবায়ের। এ ছাড়া ড্যাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি হারুন আল রশিদ অনলাইনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কলেজটিতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস