জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুর জেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা ৯১টি। এর মধ্যে মাত্র ১৫টি ভাটার বৈধ ছাড়পত্র ও হালনাগাদ লাইসেন্স রয়েছে। বাকি ৭৬টি ভাটার নেই কোনো পরিবেশগত অনুমোদন। তবুও প্রকাশ্যেই চলছে ইট উৎপাদন কার্যক্রম।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একাধিক ইটভাটার ভেতরেই স্থাপন করা হয়েছে অবৈধ স’মিল। এসব স’মিলে কেটে নেওয়া গাছ রাতের আঁধারে ব্যবহার করা হচ্ছে ইট পোড়ানোর কাজে। অথচ আইন অনুযায়ী ইটভাটায় কাঠ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এর ফলে, আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। বাতাসে মিশছে ক্ষতিকর গ্যাস ও ধুলিকণা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর প্রভাবে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও চর্মরোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে ফসলি জমি দখল করে। ইট তৈরির জন্য কেটে নেওয়া হচ্ছে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি। অনেক ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে নদ-নদীর পাড় ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার ফলে বাড়ছে ভাঙনের ঝুঁকি।
বিশেষ করে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা ইউনিয়নেই রয়েছে ৩৫টির বেশি ইটভাটা, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
পাচখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, 'একটি ইউনিয়নে ২৫ থেকে ৩০টি ইটভাটা কীভাবে চলে, সেটা প্রশাসন না দেখার ভান করছে। আমরা ধোঁয়ার মধ্যে বসবাস করছি, কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছে না।'
লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও নবায়নের জন্য হাতে গোনা কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: শিবচরের বরহামগঞ্জ এলাকার মেসার্স পিবিএফ ব্রিকস, কাঠালবাড়ীর মেসার্স জননী ব্রিকস এবং সদর উপজেলার মেসার্স মোল্লা ব্রিকস–২।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব আবেদনও এখনো অনুমোদন পায়নি। তবুও ভাটাগুলোতে ইট উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, 'চলতি বছর দুইটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।'
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা বলেন, 'নির্বাচনী কাজের ব্যস্ততার কারণে সবদিকে নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তালিকা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'