সূত্র জানিয়েছে আগামীকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। একই দিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ করান রাষ্ট্রপতি। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির পদে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনের পর তিনি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব এবং আপসহীন চরিত্র তাকে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজসহ সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন রাজনীতিতে। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি মহাসচিব হিসেবে পরিচিতি পান। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সরকারের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বকে সমন্বয় করে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা চলছে।
রাষ্ট্রীয় পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, অরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অভিজ্ঞ নেতা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারীর নামও আলোচনায় এসেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শপথ ও সরকার গঠন সংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়া সংবিধানের বাইরে হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তাবনা নেওয়া হচ্ছে।