সোমবার (১৮ মে) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা সিআইডি এদিনও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত আগামী ২ জুলাই নতুন দিন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। পরে সেই অর্থ ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশের ভেতরের একটি চক্রের সহায়তায় অর্থ পাচারের ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল।
ঘটনার পর একই বছরের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি।
মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারেনি।
চুরি হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ ফিলিপাইনের তিনটি ক্যাসিনোতে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশকে ফেরত দেয় ফিলিপাইন সরকার। তবে এখনো উদ্ধার হয়নি বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।
এদিকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে আরসিবিসি (রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন) মামলাটি খারিজের আবেদন জানায়।
২০২২ সালের এপ্রিলে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা খারিজ করে দেন। রায়ে বলা হয়, ওই আদালতের এ মামলার ওপর পর্যাপ্ত এখতিয়ার নেই। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অর্থ উদ্ধারের স্বার্থে নিউইয়র্কের এখতিয়ারভুক্ত অন্য আদালতে নতুন করে মামলা করা হয়েছে।